প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 9, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 9, 2026 ইং
ভারতে স্টারলিংক প্রবেশে বাধার অভিযোগ, মাস্কের পাশে দাঁড়ালেন রাহুল গান্ধী

ভারতের বাজারে ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা 'স্টারলিংক' চালুর প্রক্রিয়ায় জটিলতা নিয়ে স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্ক এবং ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর মধ্যকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা আদান-প্রদান বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই বাকযুদ্ধে স্টারলিংকের ভারত প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ইলন মাস্কের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। সেখানে ভারতে স্যাটেলাইট লাইসেন্স অনুমোদনের বিলম্ব নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে মাস্ক লেখেন, স্টারলিংক বিশ্বের ১৬৫টিরও বেশি দেশে অনুমোদিত এবং ভারত সরকারের প্রতিটি নিয়মকানুন ও শর্ত মেনে চলার পেছনে আমরা দীর্ঘ পাঁচ বছর সময় পার করেছি। তাহলে এখনও কেন লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না? আম্বানি কি ভারতের আসল মালিক? অপর একটি পোস্টে দেশের সাধারণ গ্রাহকদের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ এনে মাস্ক আরও উল্লেখ করেন, দুর্ভাগ্যবশত, কিছু অলিগার্ক বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর একচেটিয়া আধিপত্য ধরে রাখার চেষ্টার কারণে আমাদের আটকে দেওয়া হচ্ছে। আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন তাঁরা কারা... এটি ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে একটি অপরাধ।
মার্কিন ধনকুবেরের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পরপরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা রাহুল গান্ধী। মাস্কের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এক্স-এ রাহুল গান্ধী উপহাসমূলক ভঙ্গিতে লেখেন, ভারতে স্বাগতম, ইলন। থামুন, অন্য লোকটিকেও আপনি ঠিক চিনে নেবেন। রাহুল গান্ধীর এই বার্তা নজর এড়ায়নি মাস্কের। কংগ্রেস নেতার মন্তব্যের জবাব দিয়ে ইলন মাস্ক লেখেন, ধন্যবাদ রাহুল। পরিস্থিতিটি সত্যিই বেশ চিন্তার।
ইলন মাস্কের ধনকুবের প্রথা ও আম্বানিকে নিয়ে করা এই সরাসরি আক্রমণ এবং তার জবাবে রাহুলের এই মন্তব্য টেলিকম খাতের এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে রূপ দিয়েছে এক বড় রাজনৈতিক তর্কে। তবে ভারত সরকারের টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় মাস্কের এই দাবি ও পক্ষপাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ভারতের উপগ্রহ যোগাযোগ সংক্রান্ত প্রশাসনিক নীতি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন।
সরকার জানায়, নিম্ন কক্ষপথভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সেবা দিতে ইতোমধ্যে তিনটি আন্তর্জাতিক উপগ্রহ যোগাযোগকারী প্রতিষ্ঠানকে গ্লোবাল মোবাইল পার্সোনাল কমিউনিকেশন লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি সংস্থাকে দেশের নিরাপত্তা প্রটোকল এবং ব্যবহারকারীদের তথ্যের সুরক্ষাজনিত শর্তাবলি কঠোরভাবে মেনে চলতে হয়। সরকার পরিষ্কার করে জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত মূল্যায়ন সম্পন্ন হওয়ার পরই কেবল পরবর্তী ধাপে স্পেকট্রাম বরাদ্দের সুযোগ আসে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমানে যে তিনটি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পেয়েছে, তারা সবাই প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাগত মূল্যায়নের একদম সমপর্যায়ে অবস্থান করছে। তাই এই নিয়ন্ত্রণ কাঠামো বা নীতিকে কোনোভাবে পক্ষপাতমূলক বা বৈষম্যপূর্ণ বলা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসাদোদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এদিকে, ভারতে সেবা শুরুর বিষয়ে নিজেদের জোর প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে স্টারলিংক। ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস ২০২৬ অনুষ্ঠানে স্টারলিংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট অফ বিজনেস অপারেশন্স লরেন ড্রেয়ার বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও নিয়মাবলীর কথা মাথায় রেখে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। দেশে স্টারলিংকের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে বিশাল বিনিয়োগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, শত শত অ্যান্টেনাসমৃদ্ধ ২০টি গেটওয়ে সাইট নির্মাণ করা হয়েছে এবং প্রশাসনিক কাজ ইতিমধ্যে গুছিয়ে আনা হয়েছে। একইসাথে ভারতীয় গ্রাহকদের সার্বিক তথ্য ভারতের ভেতরেই সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র: খালিজ টাইমস
এই ওয়েবসাইটের সকল ছবি ও ভিডিও অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার করা নিষেধ। উক্ত নিউজ পোর্টালটির নিবন্ধন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।